বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৬

সোভিয়েত ‘ধ্বংসস্তূপ’ থেকে নতুন রাশিয়া


ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে: ‘সিইং ইজ বিলিভিং’। সহজ
বাংলায় বলা যায়, দর্শনই বিশ্বাস। তাই মাঝেমধ্যে দেশ-
বিদেশ ঘুরে বেড়ানো। ৭ থেকে ১৭ আগস্ট
রাশিয়ার বর্তমান রাজধানী মস্কো এবং জারদের ঐতিহাসিক
রাজধানী সেন্ট পিটার্সবার্গ গিয়েছিলাম। বহুদিন
থেকে দেশটি দেখার ইচ্ছা পোষণ করছিলাম, যদিও
সেই সোভিয়েত ইউনিয়ন এখন আর নেই। ১৯১৭
সালে বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ার আমূল
পরিবর্তনের প্রায় ৭৫ বছর পর আরেকবার রাশিয়ার
পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান রাশিয়ায় সমাজতন্ত্র ও
লেনিনবাদ নির্বাপিত। রাশিয়া পুঁজিবাদের অনুসারী। আর
তথাকথিত ডেমোক্রেসি। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার
পরও আয়তনে রাশিয়া বিশ্বের সর্ববৃহৎ দেশ।
রাশিয়ার এই দুই শহর সম্বন্ধে আমার যে ধারণা ছিল, তা
ছিল পশ্চিমা বিশ্বের পুঁজিবাদী প্রচারণায় অনেকটা
আচ্ছন্ন। রাশিয়ার ইতিহাস যৎসামান্য যা জেনেছিলাম, তা
কিছুটা পুরোনো সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে। তবে এই
কয়েক দিনের সফরে আমার ধারণা যথেষ্ট পরিষ্কার
হয়েছে, বিশেষ করে বর্তমানের রাশিয়ার শক্তিমত্তা
ও অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে।
মস্কোতে বিমান থেকে রাতে অবতরণের পরেও
বুঝতে পারিনি, প্রায় ৮০০ বছর পুরোনো এই শহরে
আমার জন্য বহু চমক রয়েছে। যদিও প্রধান বিমানবন্দর
১৯৪৮ সালের দোমাদেদোভা বিমানবন্দরের
অভ্যন্তরীণ কিছু পরিবর্তন, পরিবর্ধন হলেও
সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের চিহ্ন অনেকটাই বিদ্যমান—বিশাল
বিমানবন্দর, তবে ওই সময় তেমন একটা ভিড় ছিল না।
ইমিগ্রেশন পার হতে অনেক সময় লেগেছিল।
হয়তো বাংলাদেশের পাসপোর্টে এত মানুষের
একসঙ্গে হাজির হওয়ার কারণে। প্রথমেই ভাষার
সমস্যায় পড়তে হয়েছিল, তবে বড় ধরনের সমস্যা
ছাড়াই গভীর রাতে মস্কোর কেন্দ্রের কয়েক
কিলোমিটার বাইরে হোটেলে পৌঁছানোর পথে
হাইওয়েতে গাড়ির এমনটা ভিড় আশা করিনি। এমন প্রশস্ত
ও আলোকোজ্জ্বল সড়ক ইউরোপের বহু
দেশেই দেখিনি।
পরদিন মস্কো দর্শন তথা পুরোনো মস্কো শহর,
মস্ক্ভা নদীর দুপারের দৃশ্য দেখে হতবাক হওয়ার
মতো। এত চওড়া রাস্তা আর রাস্তায় যানজট—সবই ছিল
ধারণার বাইরে। সম্পূর্ণ পাথরের তৈরি প্রধান সড়ক
ভেলেস্কা উলিৎসাসহ অন্যান্য সড়কের দুই পাশের
দালানগুলো একই আদলের। গাইডের কাছ থেকে যা
জানলাম তা হলো, এসব রাস্তাঘাট সব ধরনের
যোগাযোগব্যবস্থা সোভিয়েত ইউনিয়নের আগের
তৈরি। তবে অনেক বিশাল আকারের যেসব স্থাপনা
সোভিয়েত আমলে তৈরি হয়েছিল, সেগুলোর
বিশালতা একধরনের অবাক হওয়ার মতো। রাতের
মস্কো আরও আকর্ষণীয়। মস্কোর চারদিকে
সার্কুলার রোড আর পুরোনো মস্কোর সব বড়
সড়কের মিলনস্থল ক্রেমলিন ও রেড স্কয়ার।
সোভিয়েত সময়ের মস্কোকে এমনভাবে সাজানো
হয়েছিল, যাতে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক শক্তিকে
দারুণভাবে দৃশ্যমান করার প্রচেষ্টা ছিল। তবে যা
চোখে পড়েনি তা হলো লেনিনের উপস্থিতি, যা
একসময় মস্কোর প্রতিটি প্রধান সংযোগস্থলে দৃশ্যমান
ছিল। শত শত লেনিনমূর্তি শহর থেকে উধাও—দু-একটি
যা–ও রয়েছে তা–ও বেশ অরক্ষিত; শুধু রেড
স্কয়ারের লেনিনের সমাধি ছাড়া। যে লেনিন
বিশ্বকে তাঁর তত্ত্বের মাধ্যমে উজ্জীবিত
করেছিলেন, তিনিই তাঁর দেশের রাজধানী থেকে
প্রায় উধাও। আর কার্ল মার্ক্স তো রাশিয়ার মাটিতেই
নেই। লেনিনের সমাধি, যেখানে লেনিনের
শরীর মমি করে সংরক্ষিত, এখনো পর্যটকদের
আকর্ষণস্থল।
বর্তমানে রাশিয়ায় বহুদলীয় গণতন্ত্র থাকলেও
দুমাতে মাত্র চারটি দলের উপস্থিতি। ‘ইউনাইটেট রাশিয়া’
পার্টি ৪৫০ আসনবিশিষ্ট দুমায় ২৩৮টি আসন নিয়ে ক্ষমতায়
রয়েছে। তারপরই ১৯ শতাংশ ভোটের মাধ্যমে ৯২টি
আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলে রয়েছে
একসময়ের প্রতাপশালী কমিউনিস্ট পার্টি, বর্তমান নাম
‘কমিউনিস্ট পার্টি অব দ্য রাশিয়ান ফেডারেশন’।
মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদে বিশ্বাসী এই দলের
অভ্যন্তরে রয়েছে যথেষ্ট মতভেদ।
অনেকে দল বদল করে সরকারি দলে যোগদান
করছেন। মস্কো অঞ্চলে কমিউনিস্ট পার্টির তেমন
দাপট নেই, এমনকি ‘স্তারায়া প্লোশিদ’-এর প্রধান
দপ্তরটিও হাতছাড়া হয়েছে বরিস ইয়েলৎসিনের সময়
থেকে। ওই সময়ে মূল দলটি নিষিদ্ধ হয়। এখনকার
রাশিয়া ভ্লাদিমির পুতিনময়, যদিও ক্রেমলিন বা রেড
স্কয়ারে পুতিনের বিলবোর্ড বা মূর্তি কিংবা ছবি নজরে
পড়েনি। এমনকি পুরোনো লেনিনগ্রাদ বর্তমানের
সেন্ট পিটার্সবার্গেও চোখে পড়েনি। রেডিও-
টিভিতেও তেমন দৃশ্যমান নয়।
সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে রাশিয়া অনেক পরিবর্তিত।
বিশাল সব শপিং সেন্টার শহরজুড়ে—যুক্তরাষ্ট্রের
ফাস্টফুড ম্যাকডোনাল্ডস, কেএফসি ও বার্গার কিংয়ে
ভর্তি। সব সময় তরুণ রাশিয়ানদের ভিড় লেগে
রয়েছে এসব দোকানে। দুটি শহরেই একই দৃশ্য।
বড় শপিং মলগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের
নামীদামি ব্র্যান্ডের দোকান। ‘মেইড ইন রাশিয়া’ কিছু
কিনতে হলে খুঁজতে হবে অনেক সময় ধরে।
আমাদের প্রজন্মের জন্মলগ্ন থেকেই
ক্রেমলিন ও রেড স্কয়ার সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ার
সঙ্গে একাকার মনে হতো, বাস্তবে তেমনটা নয়।
ক্রেমলিন পুরোনো রাজকীয় রাশিয়ার, বিশেষ
করে ‘রোমানভ’ সাম্রাজ্যের আ

SHARE THIS

0 মন্তব্য(গুলি):