বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৬

মরগানদের মাশরাফির অভয়


মাশরাফি বিন মুর্তজার কথাটা কি পৌঁছাল ইংল্যান্ডের
ক্রিকেটারদের কানে? এউইন মরগানদের মনে
কতটা দাগ কেটেছে তাঁর আহ্বান?
‘প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেই আমি বলব,
তোমরা আসবে। আমি নিশ্চিত, তোমরা এখানে
এসে নিশ্চিন্ত মনে ক্রিকেট খেলতে পারবে।
অন্য কিছু নিয়ে ভাবার সুযোগ নেই। খুব ভালো
প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আশা করি। এ পরিস্থিতিতে
খেললে আমাদের ভেতর বন্ধুত্ব আরও দৃঢ়
হবে’—কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের মিডিয়া
লাউঞ্জে বসে আবেগময় এ ভাষণটা দিলেন
বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।
ভাষণের উদ্দেশ্য ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা।
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ড দল বাংলাদেশ
সফরে আসবে, নাকি নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে
অস্ট্রেলিয়ার তারাও মতো পিছু হটবে—সেটা এখন
ক্রিকেটারদের মতামতের ওপরই বেশি নির্ভর
করছে।
মাশরাফির অবশ্য বিশ্বাস, দুই টেস্ট আর তিন ওয়ানডের
সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ড দল সময়মতো বাংলাদেশে
চলে আসবে। একজন খেলোয়াড় হিসেবেই তাঁর
এই বিশ্বাস, দাবিও বলা যায়। তা ছাড়া সন্ত্রাসী হামলার
কালো ছায়া এখন বিশ্বের কোথায় নেই! বাংলাদেশকে
আলাদা চোখে দেখার কোনো কারণ খুঁজে পান না
অধিনায়ক, ‘একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি বলব
খেলাটা চালু রাখতে। খেলাটা যাতে হয়। পৃথিবীর সব
জায়গাতেই এ ঘটনাগুলো ঘটছে। এভাবে খেলা বাদ
দিলে একসময় তো খেলাই বন্ধ হয়ে যাবে!
ফ্রান্সের মতো জায়গায় সন্ত্রাসী হামলার পর
ইউরো হয়েছে। সব দল খেলেছে।
খেলোয়াড়দের খেলার দিকেই মনোযোগী
হওয়া উচিত।’
ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল ও সিরিজ কাভার করতে আসা
সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস
দিয়েছে বিসিবি ও বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনী। তারপরও পরশু ইংল্যান্ডের দৈনিক দ্য
টেলিগ্রাফ লিখেছে, বাংলাদেশে আসা ইসিবির তিন
সদস্যের প্রতিনিধিদলের প্রধান রেগ ডিকাসন নাকি
একটা বিষয় নিয়ে শঙ্কিত। হোটেল আর মাঠের
নিরাপত্তা পরিকল্পনা সন্তোষজনক হলেও বিমানবন্দর
থেকে হোটেল বা হোটেল-মাঠ যাতায়াতের পথে
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন
তিনি। আজ খেলোয়াড়দের সঙ্গে সভায় ডিকাসন
নিশ্চয়ই এ বিষয়টাকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে তুলে
ধরবেন। কিন্তু মাশরাফি এটিকে কোনো বিষয়ই মনে
করছেন না, ‘খেলোয়াড়দের ঠিকভাবে নিয়ে যাওয়া
এবং নিয়ে আসার ক্ষমতা আছে। আমাদেরও কিন্তু
পরিবার আছে। আমরাও তো মানুষ। আমাদের
যাতায়াতের বিষয়টিও এর মধ্যেই পড়ে। বিসিবি খুব
ভালোভাবে এটা সামলাতে পারবে বলে আমার
বিশ্বাস।’
বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ছিল। অস্ট্রেলিয়া সেই ভয়ে
দলই পাঠাল না। টুর্নামেন্টটা শেষ পর্যন্ত
ভালোভাবেই শেষ হয়েছে এবং ইংল্যান্ডের যুবারাও
বাংলাদেশে নিরাপদে খেলে নিরাপদে ঘরে ফিরে
গেছে। বাংলাদেশ অধিনায়কের আশা, সেবারের
মতো এবারও বিসিবির পাশে থাকবে ইসিবি, ‘বাংলাদেশের
এমন পরিস্থিতে সব সময় ইংল্যান্ড পাশে ছিল। আশা করি,
এখনো ওরা আমাদের সঙ্গে থাকবে।’
মাশরাফির আশা পূরণ হবে কি না, সেটি হয়তো আজই
জানা যাবে। মাশরাফিকে সামনে রেখে গোটা
বাংলাদেশই এখন তাকিয়ে মরগান-কুকদের দলের
দিকে। সফর নিয়ে ইসিবির সিদ্ধান্তের ভিতটা যে আজ
তাদেরই গড়ে দেওয়ার কথা!

SHARE THIS

0 মন্তব্য(গুলি):