জামালপুরের ইসলামপুর পৌর শহরের
দড়িয়াবাদ এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর
একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুটি
এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। এ সেতুর কয়েক
শ মিটার দূরে তিনটি খননযন্ত্রের সাহায্যে
অবৈধ উপায়ে তোলা হচ্ছে বালু। এ কাজে
নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয়
এক নেতা।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে,
পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের
সভাপতি মক্কর আলীর নেতৃত্বে একটি চক্র
গত জুন থেকে বালু উত্তোলন করছে। এতে
নবনির্মিত সেতু হুমকির মুখে পড়েছে বলে
তাঁদের অভিযোগ। এলাকাবাসী শিগগির
বালু তোলা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ
দাবি করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দড়িয়াবাদ
এলাকার এক ব্যক্তি গত শুক্রবার প্রথম
আলোকে বলেন, নতুন সেতুর খুব কাছ থেকে
অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। এ বিষয়ে
স্থানীয় প্রশাসন অবহিত। কিন্তু বালু
উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী। তাই ভয়ে
কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। এভাবে
বালু তোলা চলতে থাকলে নদে ভাঙন
ভয়াবহ রূপ নেবে। সেতুটিও হুমকির মুখে
পড়বে। এ ছাড়া এলাকার ফসলি জমিও
ভাঙনের শিকার হবে।
উত্তর দড়িয়াবাদ এলাকার আরেক ব্যক্তি
বলেন, সবাই জানে যে অবৈধভাবে বালু
তোলা হচ্ছে। বালু উত্তোলনকারীরা
প্রভাবশালী মানুষ। এলাকাবাসীর কথা
কেউ শুনবে না। বরং তাদের কথাই শুনবে।
শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে,
দড়িয়াবাদ এলাকায় ঢুকতেই মাহিন্দ্র
ট্রাক্টর বোঝাই অবৈধ বালু। নদের বিশাল
এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে বালু তোলার
জন্য তিনটি খননযন্ত্র। ব্রহ্মপুত্র সেতুর প্রায়
৪৫০ মিটার দূরত্বের মধ্যে রয়েছে এসব
খননযন্ত্র। পাঁচ-ছয়টি ট্রাক্টরে বালু তোলা
হচ্ছে। এ সময় কয়েকজন শ্রমিক বলেন, তাঁরা
বালু কিনে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি
করে থাকেন।
খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন মক্কর
আলী। এ সময় জানতে চাইলে তিনি বলেন,
‘বালু তোলার লাইসেন্স (সনদ) নাই। তবে
আমার জমি থেকেই বালু তুলে বিক্রি
করছি। প্রশাসনের লোকজন বিষয়টি
জানেন।’ তিনি আরও বলেন, তিনটি
খননযন্ত্রের মধ্যে একটি তাঁর। অন্য দুটি
দড়িয়াবাদ এলাকার সুজন মিয়া ও হাতিজা
গ্রামের শাহীন মিয়ার। বালু তোলার ফলে
সেতুটি হুমকির মুখে পড়ছে কি না, এমন
প্রশ্নে তিনি বলেন, বালু তোলায় যে বড়
বড় গর্ত হয়েছে, পানিতে সেগুলো আবার
ভরাট হয়ে যাবে। এ কারণে সেতুর কোনো
ক্ষতি হবে না।
গত সোমবার জানতে চাইলে উপজেলার
নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এহসানুল হক
মামুন বলেন, ‘আমি এ উপজেলায় সম্প্রতি
যোগদান করেছি। ওই স্থান থেকে বালু
তোলার বিষয়টি এই প্রথম শুনলাম। আমি
নিজে গিয়ে বালু উত্তোলনকারীদের
বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।’
জেলা প্রশাসক মো. শাহাবুদ্দিন খান
বলেন, ‘বিষয়টি জানা ছিল না, এখন
জানলাম। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।’
0 মন্তব্য(গুলি):