একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী প্রাণভিক্ষার জন্য আবেদন করবেন কিনা তা জানাতে আরও সময় চেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর তত্ত্বাবধায়ক (জেল সুপার) প্রশান্ত কুমার বণিক সমকালকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলী কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ বন্দি রয়েছেন।
প্রশান্ত কুমার বণিক বলেন, বেলা ১১টার দিকে মীর কাসেমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কয়েকজন কর্মকর্তা তার প্রাণভিক্ষার আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে চান। এ সময় তিনি বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনার জন্য আরও সময় চান।
এর আগে বুধবার সকালেও কারা কর্তৃপক্ষ মীর কাসেমকে তার প্রাণভিক্ষার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। এদিনও তিনি সময় চেয়েছেন।
অবশ্য বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে কারা অধিদফতরের কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে যৌক্তিক সময় দেওয়া হবে। সাধারণত দণ্ডপ্রাপ্তদের রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করার জন্য সাত দিন সময় দেওয়া হয়। তবে আইসিটি আইনে এ রকম কোনো নিয়ম নেই। সব মিলিয়ে তিনি (মীর কাসেম আলী) সাত দিনের বেশি সময় পাবেন না।’
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মীর কাসেমের ফাঁসি বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন।
ওইদিন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ২৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। পরে এই যুদ্ধাপরাধীর দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ হওয়ার রায় বুধবার সকালে তাকে পড়ে শোনানো হয়।
বুধবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে মীর কাসেম আলীর পরিবারের ৯ সদস্য কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিকাল পৌনে ৪টার দিকে কারাগার থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মীর কাসেম আলীর স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন।
এসময় তিনি জানান, ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেমকে ফিরে পাওয়ার পর তার সঙ্গে কথা বলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন তার স্বামী।
কারা ফটকে কাসেমপত্মী বলেন, তাদের ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে কিছুদিন আগে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার স্বামী মীর কাসেম আলী তাকে বলেছেন- ছেলে ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। ছেলে ফিরে এলে তার সঙ্গে কথা বলেই প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি-না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
২০১০ সালের ২৯ জুন থেকে মীর কাসেম কাশিমপুর কারাগারে আছেন। মীর কাসেমের রিভিউ খারিজের পর কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার ও আশপাশের এলাকায় সতর্কতা বাড়ানো হয়। কারাগারের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়।
0 মন্তব্য(গুলি):